প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 14, 2026 ইং
টেকনাফে মাটির নিচ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদৃশ গ্রেনেড ও গুলি উদ্ধার।

পারভেজ বাঙালী।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের টেকনাফে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ডের ধারণা, সীমান্ত অঞ্চল ব্যবহার করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বড় ধরনের নাশকতা কিংবা পাচারের উদ্দেশ্যে এই অস্ত্রগুলো মজুদ করেছিল। উদ্ধারকৃত গ্রেনেডগুলো দেখতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত গ্রেনেডের মতো।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযানের বিস্তারিত জানান কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী।
কোস্ট গার্ড জানায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকার একটি লবণ মাঠে কতিপয় দুর্বৃত্তের সন্দেহজনক গতিবিধির খবর আসে। সশস্ত্র ওই চক্রটি সীমান্ত দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে মাটির নিচে বিপুল অস্ত্র লুকিয়ে রাখছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।
পলাতক দুর্বৃত্তদের ধরতে না পারলেও ওই লবণ মাঠে ব্যাপক তল্লাশি চালায় কোস্ট গার্ড। একপর্যায়ে মাটি খুঁড়ে সন্ধান মেলে একটি গোপন আস্তানার। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়:
হ্যান্ড গ্রেনেড: ১০টি (মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত গ্রেনেডের মতো)
গোলাবারুদ: ২৮ রাউন্ড গুলি
মাদক: ২ কেজি গাঁজা
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত গ্রেনেডের মতো। বাংলাদেশের সীমান্তকে ব্যবহার করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী নাশকতা সৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এগুলো লুকিয়ে রেখেছিল বলে আমাদের ধারণা।"
— লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী, ইনচার্জ, টেকনাফ স্টেশন।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অস্ত্র ও মাদক মজুদের পেছনে কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রী হস্তান্তরের পাশাপাশি এই বিষয়ে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪